পান্ডা এন্টিভাইরাস কি? ও তার বৈশিষ্ট, ব্যবহার ২০২৫ - Panda Antivirus Review in Bangla 2025

  

Panda antivirus review in Bengali, পান্ডা এন্টিভাইরাস বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা
Panda Antivirus Review Bangla

Panda Antivirus : এক নিরব সাথী, যাকে আপনি চোখে দেখেন না, কিন্তু সে আপনার পাশে থাকে

আমরা যখন কম্পিউটার বা মোবাইল চালাই, তখন কি আমরা বুঝতে পারি—পর্দার ওপারে কত বিপদ লুকিয়ে আছে? ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ফিশিং—এসব শব্দ শুনতে যতটা প্রযুক্তিগত লাগে, বাস্তবে এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যবসার গোপন ফাইল পর্যন্ত হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

এইসব বিপদের বিরুদ্ধে যে নিরবে লড়াই করেছে তাঁর নাম—Panda Antivirus।  

তবে, এই সফটওয়্যার শুধু ভাইরাস ধরা বা স্ক্যান করাই করে না। এর কাজ অনেক গভীর।

ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি আপনার ডিভাইসকে এমনভাবে পাহারা দেয়, যেন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন নিশ্চিন্তে, কিন্তু আপনার সাথী সবসময় সতর্ক।  

এই লেখায় আমি আপনাদেরকে শুধু Panda Antivirus-এর ফিচার বলবো না— বলবো কেন এই সফটওয়্যারটি আজকের দিনে প্রয়োজন, কীভাবে এটি কাজ করে, এবং কোন কোন ব্যবহারকারীর জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।

Panda Antivirus কী?

কম্পিউটার চালানো মানেই কি নিরাপদ থাকা?  

না, একদমই না। প্রতিদিনের ইন্টারনেট ব্যবহারে আমরা কত অজানা বিপদের মুখোমুখি হই—ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, র‍্যানসমওয়্যার... নাম শুনলেই গা শিউরে ওঠে।


তবে এইসব ডিজিটাল দানবের বিরুদ্ধে এক নিরব যোদ্ধা আছে—তার নাম Panda Free Antivirus।

এই অ্যান্টিভাইরাসটি একেবারে ফ্রি।  

মানে, আপনি টাকা না দিয়েই আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।


এটি Cloud Technology ব্যবহার করে অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে ভারী ফাইল রাখে না—সব কাজ হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে।  

ফলে আপনার কম্পিউটার স্লো হয় না, অথচ ভাইরাস থেকে রক্ষা পায়।

Panda Antivirus এর বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি? - Free  Antivirus Features in Bangla 

 ১. রিয়েল-টাইম স্ক্যানিং:

আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তখন Panda অ্যান্টিভাইরাস আপনার কম্পিউটারকে রিয়েল-টাইমে স্ক্যান করে অর্থাৎ মুহূর্তে মুহূর্তে ভাইরাস, স্পাইওয়্যার, ম্যালওয়্যার খুঁজে রোধ করে।

২. ইউএসবি সুরক্ষা (USB Protection):

যে কোনো পেনড্রাইভ বা ইউএসবি ডিভাইস কম্পিউটারে লাগালেই Panda অটো স্ক্যান করে নেয়। এতে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যায়।

 ৩. ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার সুরক্ষা:

কম্পিউটারে থাকা বা নেট থেকে আসা সব ধরনের ভাইরাস, স্পাইওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার Panda সহজে চিনে ফেলে এবং মুছে দেয়।

 ৪. কাস্টম সিকিউরিটি সেটিংস:

আপনি চাইলে Panda-কে নিজের মতো করে সেট করতে পারেন।

যেমন –

  • কখন স্ক্যান চলবে সেটি নির্ধারণ করা,

  • ইউএসবি স্ক্যান চালু/বন্ধ করা,

  • কোন কোন ফাইল স্ক্যান করবে তা বেছে নেওয়া ইত্যাদি।

 ৫. হালকা সফটওয়্যার :

  • পুরনো বা স্লো কম্পিউটারেও ভালোভাবে চলে।

  • ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব কম RAM খায় (১৫-২০MB)।

  • ২GB RAM বা ১০ বছরের পুরনো ল্যাপটপেও কোনও সমস্যা হয় না।

 ৬. ফ্রি VPN (সীমিত ব্যবহার) :

  • প্রতিদিন ১৫০MB ইন্টারনেট VPN দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

  • শুধু USA সার্ভারেই কানেক্ট হতে পারবেন।

  • কিছু ওয়েবসাইট যেগুলো বাংলাদেশ বা ভারত থেকে খোলা যায় না, সেগুলো এই VPN দিয়ে খোলা যাবে।

৭. প্রসেস মনিটর:

এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি দেখতে পারবেন কোন কোন সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম কম্পিউটারে চলছে এবং কোনটা ক্ষতিকর হতে পারে।

 ৮. সিকিউরিটি নিউজ:

নতুন কী ধরনের ভাইরাস আসছে বা ইন্টারনেট সিকিউরিটি নিয়ে আপডেটগুলো আপনাকে নিয়মিত জানানো হয়।

৯. ডার্ক ওয়েব স্ক্যানার:

আপনার ইমেইল বা পাসওয়ার্ড ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছে কি না, Panda সেটা খুঁজে বের করে আপনাকে সতর্ক করে।

 ১০. মাল্টিমিডিয়া / গেম মোড:

যখন আপনি গেম খেলছেন বা মুভি দেখছেন, তখন Panda নিরবভাবে কাজ করে – কোনো বিরক্তি বা পপ-আপ ছাড়াই।

Panda Antivirus দাম কত?

Panda Dome Free – 0 প্রতি মাস

ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস, USB প্রোটেকশন, ১৫০MB/দিন VPN

Essential – ২৪৯.৯৯ প্রতি মাস

ফায়ারওয়াল, ওয়াইফাই সুরক্ষা, অনলাইন শপিং নিরাপত্তা

বার্ষিক অফার: ২১৩৪.৯৯ (৩০% ছাড়)

Advanced – ৩৩৪.৯৯ প্রতি মাস

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও র‍্যানসমওয়্যার থেকে সুরক্ষা

Complete – ৪৯৯.৯৯ প্রতি মাস

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, ফাইল এনক্রিপশন, ডিভাইস ক্লিনার

Premium – ৮৩৯.৯৯ প্রতি মাস

আনলিমিটেড VPN, আপডেট ম্যানেজার, ২৪/৭ টেক সাপোর্ট

প্রতিটি পেইড প্ল্যানে প্রথম মাস ফ্রি।

ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে সাবধান থাকুন, শুধু অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই কিনুন।

Panda Security, Panda Antivirus আর Panda Dome কোনটা কী?

অনেকেই Panda নাম শুনে বিভ্রান্ত হন। কেউ বলেন এটা অ্যান্টিভাইরাস, কেউ বলেন VPN আছে, আবার কেউ Dome বললে বুঝতেই পারেন না সেটা কী। এই পোস্টে আমরা একেবারে সহজভাবে আলাদা করে বুঝব—Panda Security, Panda Antivirus আর Panda Dome-এর পার্থক্য।


Panda Security: এটি কী?

Panda Security হলো একটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি। এরা বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা সফটওয়্যার তৈরি করে—যেমন অ্যান্টিভাইরাস, VPN, ফায়ারওয়াল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ইত্যাদি।


এই কোম্পানির মূল কাজ হলো মানুষকে অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। আপনি যদি বলেন “আমি Panda Security-এর সফটওয়্যার ব্যবহার করি”, তাহলে বোঝায় আপনি এই কোম্পানির তৈরি কোনো সুরক্ষা টুল ব্যবহার করছেন।

সহজ ভাষায়: Panda Security = কোম্পানি


Panda Antivirus: শুধু ভাইরাসের জন্য

Panda Antivirus হলো Panda Security-এর তৈরি একটি বেসিক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। এর কাজ খুব সরল—আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার থেকে রক্ষা করা।


এটি হালকা, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং ফ্রি ভার্সনও পাওয়া যায়। যারা শুধু ভাইরাস থেকে সুরক্ষা চান, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট।

সহজ ভাষায়: Panda Antivirus = ভাইরাস সুরক্ষার জন্য টুল


Panda Dome: আধুনিক ও পূর্ণ সুরক্ষা

Panda Dome হলো Panda Security-এর নতুন ব্র্যান্ড নাম। এটি শুধু অ্যান্টিভাইরাস নয়—এর সঙ্গে আরও অনেক ফিচার যুক্ত আছে। যেমন:

VPN (নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার)

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (শিশুর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ)

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

USB স্ক্যান

ফাইল এনক্রিপশন

রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন


Panda Dome-এর একটি ফ্রি ভার্সন আছে, তবে উন্নত ফিচার পেতে হলে পেইড প্ল্যান নিতে হয়।

সহজ ভাষায়: Panda Dome = অ্যান্টিভাইরাস + অতিরিক্ত ফিচারসহ সম্পূর্ণ সুরক্ষা স্যুট

 Panda Free Antivirus কাদের জন্য উপযুক্ত?

 যাদের জন্য Panda Free Antivirus সবচেয়ে ভালো হবে:

১. সাধারণ ব্যবহারকারী (Normal User):

যারা শুধু ইমেইল চেক করেন, ফেসবুক চালান বা YouTube দেখেন – তাঁদের জন্য এই অ্যান্টিভাইরাস একদম উপযুক্ত।

২. বাজেটের কথা ভাবেন যাঁরা (Budget-Conscious User):

অনেকে Norton বা Kaspersky-এর মতো দামি অ্যান্টিভাইরাস কিনতে পারেন না বা কিনতে চান না।

তাঁদের জন্য Panda Free Antivirus একেবারে বিনামূল্যে সহজ সুরক্ষা দেয়।

৩. যাদের কম্পিউটারের আছে:

যাদের কম্পিউটারে RAM কম (যেমন: ২GB বা ৪GB), তাঁদের জন্য Panda একদম উপযুক্ত।

এটি খুব হালকা – কম্পিউটার স্লো হয় না, সহজে চলে।

৪. যাঁরা খুব বেশি টেকনোলজি বোঝেন না (Non-Tech Savvy):

অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস সেটিংস বা আপডেট বোঝে না। Panda Install করলেই নিজে নিজে কাজ করে – কিছু বুঝতে না পারলেও অসুবিধা নেই।

৫. যাঁরা শুধু সাধারণ নিরাপত্তা চান (Basic Protection):

আপনি যদি অনলাইনে শপিং বা ব্যাঙ্কিং না করেন, তাহলে Panda Free Antivirus যথেষ্ট।

সাধারণ ভাইরাস, পেনড্রাইভ ভাইরাস বা সাধারণ অনলাইন ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এটি সাহায্য করে।

সহজ কথায়,

যদি আপনি একজন সাধারণ ইউজার হন, পেইড অ্যান্টিভাইরাস না কিনতে চান, পুরনো কম্পিউটার ব্যবহার করেন বা বেশি কিছু না জেনে সহজ একটা অ্যান্টিভাইরাস চান — তাহলে Panda Free Antivirus আপনার জন্য একেবারে পারফেক্ট।

Panda antivirus কিভাবে কাজ করে?

Panda Antivirus এমন একটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার যা আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ফিশিং এবং অন্যান্য সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এর কাজ করার প্রধান ৪টি পদ্ধতি গুলো হলো:

  ● রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন

 ● USB প্রোটেকশন

 ● ক্লাউড স্ক্যানিং

 ● ফিশিং ব্লকার

 রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন কী এবং কীভাবে কাজ করে?

রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন মানে হল, আপনার কম্পিউটারে যেকোনো সময় যদি কোনো নতুন ফাইল আসে – যেমন: আপনি কিছু ডাউনলোড করলেন, ইমেইলের সঙ্গে কোনো অ্যাটাচমেন্ট খুললেন, বা পেনড্রাইভ লাগালেন – Panda সাথে সাথে সেই ফাইলটি স্ক্যান করে দেখে সেটা ভাইরাস কিনা।

উদাহরণ:

ধরুন, আপনি ইমেইলে একটা PDF ফাইল পেলেন আর সেটা খুললেন। যদি ওই ফাইলে ভাইরাস লুকিয়ে থাকে, Panda সাথে সাথেই সেটিকে চিনে ফেলে এবং আপনাকে সতর্ক করে বা ফাইলটি ব্লক করে দেয়।

এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে, আপনাকে আলাদা করে কিছু করতে হয় না।

USB প্রোটেকশন কী?

আজকাল ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হলো পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক।

USB প্রোটেকশন Panda-র একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার, যা আপনি যেই মুহূর্তে পেনড্রাইভ বা SD কার্ড কম্পিউটারে লাগান, তখনই অটোমেটিকভাবে স্ক্যান চালিয়ে দেখে নেয় সেখানে ভাইরাস আছে কি না।

যদি ভাইরাস থাকে, Panda সেটা ব্লক করে দেয় বা আপনাকে মুছে ফেলতে বলে।

এইভাবে আপনি USB-র মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো থেকে নিরাপদ থাকেন।

ক্লাউড স্ক্যানিং কীভাবে কাজ করে?

অনেক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটারের RAM বা CPU অনেক বেশি ব্যবহার করে ফাইল স্ক্যান করে, যার ফলে পিসি স্লো হয়ে যায়।

কিন্তু Panda Free Antivirus ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

অর্থাৎ: Panda ভাইরাস চেক করার সময় সব তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব সার্ভারে পাঠিয়ে চেক করে ফেলে – এতে আপনার কম্পিউটার বেশি চাপ খায় না।

 ফিশিং ব্লকার কী?

ফিশিং (Phishing) মানে হচ্ছে ভুয়া ওয়েবসাইট, যেগুলো দেখতে একেবারে আসল সাইটের মতো, কিন্তু তৈরি করা হয় আপনার পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য।

 যেমন: আপনি হয়তো একটা Facebook লগইন পেজে ঢুকলেন, কিন্তু সেটি ভুয়া। আপনি যদি সেখানে আপনার ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড দেন, সেটা সরাসরি হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।

Panda এর ফিশিং ব্লকার এইসব ভুয়া বা জাল সাইট চিনে ফেলে এবং আপনাকে সাবধান করে দেয়, যাতে আপনি ভুল করে কোনো জাল সাইটে গিয়ে প্রতারিত না হন।

Panda Antivirus কি রিয়েল টাইমে ভাইরাস আটকাতে পারে?

হ্যাঁ, Panda Antivirus রিয়েল-টাইম ভাইরাস সুরক্ষা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো ভাইরাসযুক্ত ফাইল খুলতে যান বা ইউএসবি ঢোকান, সঙ্গে সঙ্গে Panda আপনাকে সতর্ক করবে ও সেই ফাইলকে কোয়ারেন্টাইন করবে।

কীভাবে কাজ করে:

ফাইল খোলার সময়: ভাইরাস থাকলে খুলতেই “অ্যালার্ট” দেখায়।

পেনড্রাইভ লাগালে: সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যান করে ভাইরাস আলাদা করে ফেলে।

অ্যাপ ইনস্টল করলে: গেম বা সফটওয়্যারে ভাইরাস থাকলে তা আটকে দেয়।

নকল ওয়েবসাইটে ঢুকলে: পেজ ব্লক করে ফেলে।

 ৩টি উপায়ে কাজগুলি করে থেকে:

1. ক্লাউড স্ক্যান: ভাইরাস চেক ক্লাউডে হয়, কম্পিউটার স্লো হয় না।

2. কোয়ারেন্টাইন: ভাইরাস পেলে ফাইল আলাদা জায়গায় রাখে।

3. বিহেভিয়ার ব্লক: সন্দেহজনক অ্যাপ হলে তৎক্ষণাৎ ব্লক করে।

 Panda Antivirus কি সত্যিই কম্পিউটার স্লো করে?

 না, Panda Antivirus কম্পিউটার স্লো করে না। বরং এটা অন্য অনেক অ্যান্টিভাইরাসের তুলনায় অনেক হালকা ও স্মার্ট!

 ১. ক্লাউড-ভিত্তিক স্ক্যানিং –

Panda Antivirus যখন আপনার কম্পিউটারের ফাইল গুলি স্ক্যান করে তার জন্য আপনার RAM বা CPU-কে খুব বেশি ব্যবহার করে না।

কারণ, এটি "Cloud"-এর সাহায্যে কাজ করে — অর্থাৎ Panda নিজের সার্ভারে পাঠিয়ে ফাইলের সিকিউরিটি চেক করে।

উদাহরণ:

আপনি একটা নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোড করলেন।

Panda ফাইলটি আপনার কম্পিউটারে স্ক্যান না করে, তার ক্লাউড সার্ভারে পাঠিয়ে রিয়েল-টাইমে চেক করে। এতে আপনার কম্পিউটারের ওপর কম চাপ পড়ে, তাই কম্পিউটার স্লো হয় না।

 অন্য অ্যান্টিভাইরাস কী করে?

ফাইল স্ক্যান করার সময় পুরো কাজটা আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর আর RAM দিয়েই করে।

ফলে পিসি স্লো হয়ে যায়, ফ্যানের শব্দ বাড়ে, ল্যাগ দেখা দেয়।

২. খুবই হালকা রিসোর্স ব্যবহার করে

Panda Antivirus ব্যাকগ্রাউন্ডে মাত্র ১৫-২০ MB RAM ব্যবহার করে।এটা এতটাই কম, যেন আপনি একটা mp3 গান চালাচ্ছেন মাত্র!

 তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অ্যান্টিভাইরাস RAM খরচ

Windows Defender প্রায় ১০০ MB

Avast / AVG ৫০-৮০ MB

Panda Free Antivirus ✅ মাত্র ১৫-২০ MB

 CPU ব্যবহার:

স্ক্যান চলাকালীন CPU usage মাত্র ১-২%, মানে আপনি একসাথে মুভি দেখতেও পারবেন, নেট ঘাঁটতেও পারবেন!

 যারা পুরনো ল্যাপটপ বা পিসি চালান, তাদের জন্য এটা খুবই বড় সুবিধা।

 ৩. পুরনো কম্পিউটারেও খুব স্মুথ চলে!

২ GB RAM + পুরনো পেন্টিয়াম প্রসেসর ইন্টারনেট ব্রাউজিং, YouTube দেখা, Word টাইপ – সবই চালাতে পারেন।

HDD ড্রাইভ (SSD নয়) কিছু ফাইল খুলতে ১-২ সেকেন্ড সময় লাগতে পারে – এটা হার্ডডিস্কের জন্য, Panda দায়ী নয়।

৪ GB RAM + i3 প্রসেসর একেবারে পারফেক্ট। Panda চলার সময় গেমও খেলতে পারবেন।

 তবে কবে একটু স্লো লাগতে পারে?

১. ফুল স্ক্যানের সময়:

 - যদি আপনি "Full Scan" দেন সপ্তাহে ১ বার যেমন, তখন CPU usage ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।

- এই সময় ভারি কাজ যেমন গেম খেলা, ভিডিও এডিটিং এড়িয়ে চলা ভালো।এর সমাধান পেতে আপনি কিছু setting করতে পারেন।

- Panda-র Settings-এ গিয়ে "Scheduled Scan" অপশনে গিয়ে সময় বেছে নিন।

- রাত ১১টার পর সেট করুন – আপনি ঘুমাবেন, কম্পিউটার স্ক্যান চলবে!

 ২. ইন্টারনেট স্লো থাকলে:

যেহেতু Panda ক্লাউড-ভিত্তিক স্ক্যান করে, তাই ইন্টারনেট যদি খুব স্লো হয়, তাহলে স্ক্যানের সময় কিছুটা দেরি হতে পারে।

 Panda Dome কী? 

Panda Dome হলো এক ধরনের সম্পূর্ণ সাইবার সুরক্ষা (Full Internet Security Suite) সফটওয়্যার, যেটি আপনার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংকে সব দিক থেকে ভাইরাস, হ্যাকার, স্পাইওয়্যার, ফিশিং, র‍্যানসমওয়্যার ইত্যাদি বিপদ থেকে রক্ষা করে।

 Panda Dome-এ যা যা থাকে 

1. রিয়েল-টাইম ভাইরাস প্রোটেকশন

2. ফায়ারওয়াল (Firewall)

3. VPN (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক)

4. পারেন্টাল কন্ট্রোল

5. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

6. মোবাইল সাপোর্ট (Android ও iPhone)

Panda Antivirus বনাম Panda Dome

Panda Antivirus এবং Panda Dome – এই দুটি সফটওয়্যারই আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসকে ভাইরাস ও অন্যান্য অনলাইন বিপদ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে এগুলোর কাজের ধরন ও সুবিধায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য।

Panda Antivirus (Free version বা basic)

Panda Antivirus হলো Panda Security কোম্পানির একটি ফ্রি ও হালকা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। এটি মূলত তাঁদের জন্য তৈরি, যারা শুধু সাধারণ ভাইরাস সুরক্ষা চান এবং অতিরিক্ত কোনো জটিল ফিচারের দরকার নেই।

এর মূল ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে: রিয়েল-টাইম ভাইরাস প্রোটেকশন, USB প্রোটেকশন এবং ক্লাউড-ভিত্তিক স্ক্যানিং, যা কম RAM খরচ করে। তবে এতে ফায়ারওয়াল, VPN, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বা প্রিমিয়াম সাপোর্টের সুবিধা নেই।

এই সফটওয়্যারটি তাঁদের জন্য উপযুক্ত, যাঁরা শুধুমাত্র একটি বিনামূল্যের এবং সহজে চলা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে চান।

Panda Dome (Premium Security Suite)

Panda Dome হলো Panda Security-এর একটি পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা প্যাকেজ, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা পান – যেমন Essential, Advanced, Complete এবং Premium প্ল্যান।

এই সফটওয়্যারে যা যা পাওয়া যায় তা হলো: রিয়েল-টাইম ভাইরাস প্রোটেকশন, Wi-Fi সুরক্ষা, ফায়ারওয়াল, VPN, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, পারেন্টাল কন্ট্রোল, ফাইল এনক্রিপশন ও তথ্য সুরক্ষা, প্রিমিয়াম কাস্টমার সাপোর্ট এবং Android ও iOS সাপোর্ট।

Panda Dome তাঁদের জন্য আদর্শ, যাঁরা তাঁদের ডিভাইস ও অনলাইন কার্যকলাপের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা খোঁজেন।

কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত?

আপনি যদি শুধুই একটি ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস চান, তাহলে Panda Free Antivirus আপনার জন্য যথেষ্ট হবে।

কিন্তু আপনি যদি VPN, ফায়ারওয়াল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজারসহ একটি সম্পূর্ণ সিকিউরিটি স্যুট চান, তাহলে Panda Dome Premium বা Advanced আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।

Panda VPN কী? এর বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

Panda VPN হলো একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) সার্ভিস, যা আপনার অনলাইন গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তৈরি হয়েছে। এই VPN আপনার আসল IP ঠিকানা লুকিয়ে রাখে এবং আপনার ইন্টারনেট ডেটা এনক্রিপ্ট করে, যাতে হ্যাকার, ট্র্যাকার বা অন্য কেউ আপনার তথ্য চুরি করতে না পারে।

Panda VPN-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:

IP ঠিকানা লুকানো
– আপনি অন্য কোনো দেশের সার্ভার ব্যবহার করে জিও-ব্লকড (Geo-restricted) ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করতে পারবেন। যেমন: Netflix USA, BBC iPlayer ইত্যাদি।

নো-লগ পলিসি (No-log policy)
– PandaVPN দাবি করে যে তারা আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরি বা তথ্য সংরক্ষণ করে না। তবে এখনও পর্যন্ত এর কোনো স্বাধীন অডিট হয়নি।

উচ্চ-স্তরের এনক্রিপশন (AES‑256)
– মিলিটারি-গ্রেড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা আপনার ইন্টারনেট ডেটাকে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ রাখে।

৯০+ দেশের সার্ভার
– সারা বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৩০০০+ সার্ভার রয়েছে।

একাধিক ডিভাইস সাপোর্ট করে
– Android, iPhone, Windows, Mac, Linux – সব প্ল্যাটফর্মেই এটি ব্যবহার করা যায়।

Split Tunneling এবং GPS Spoofing (শুধুমাত্র মোবাইলে)
– আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন কোন কোন অ্যাপ VPN-এর মাধ্যমে চলবে এবং কোনগুলো নয়।
– GPS Spoofing-এর মাধ্যমে আপনার অবস্থান (Location) ইচ্ছেমতো বদলানো যায়।

Panda Antivirus কে বানিয়েছে?

Panda Antivirus তৈরি করেছে Panda Security নামে একটি স্পেনের সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি।

শুরুতে এই কোম্পানির নাম ছিল Panda Software। এটি তৈরি হয়েছিল ১৯৯০ সালে, স্পেনের একজন ব্যক্তি Mikel Urizarbarrena এর মাধ্যমে। তখন কোম্পানিটি শুধু Antivirus Software তৈরি করত।

কিছুদিন পর, Panda শুধু অ্যান্টিভাইরাস নয়, আরও অনেক ধরনের সাইবার নিরাপত্তা পরিষেবা দিতে শুরু করে। যেমন:

 ফায়ারওয়াল

ম্যালওয়্যার সুরক্ষা

 ইন্টারনেট নিরাপত্তা

২০২১ সালে, Panda Security-কে কিনে নেয় একটি বড় আমেরিকান সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি যার নাম Watch Guard Technologies।

Watch Guard Technologies মূলত ব্যবসা ও অফিসের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়, যেমন:

নেটওয়ার্ক সুরক্ষা

 থ্রেট ম্যানেজমেন্ট

 আইটি নিরাপত্তা সমাধান ইত্যাদি।

Panda Cloud Antivirus কী?

Panda Cloud Antivirus এখন Panda Free Antivirus নামে পরিচিত।

এটি একটি একদম Free Antivirus Software, যা ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার কম্পিউটারকে বিভিন্ন দিক থেকে সুরক্ষা দেয় যেমন,

 ম্যালওয়্যার (খারাপ প্রোগ্রাম)

স্পাইওয়্যার (চুপিচুপি নজরদারি করা সফটওয়্যার)

 র‍্যানসমওয়্যার (ফাইল লক করে টাকা দাবি করে এমন ভাইরাস)

পান্ডা ফ্রী ভার্সন কি যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়?

হ্যাঁ, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পান্ডা অ্যান্টিভাইরাসের ফ্রী ভার্সন যথেষ্ট সুরক্ষা প্রদান করে। এতে রিয়েল-টাইম ভাইরাস স্ক্যান, ইউএসবি প্রটেকশন এবং প্রতিদিন ১৫০ এমবি ফ্রী VPN সুবিধা রয়েছে। তবে আপনি যদি অনলাইন ব্যাংকিং, শপিং বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করেন, তাহলে পেইড ভার্সন ব্যবহার করাই ভালো, কারণ ফ্রী ভার্সনের ফিশিং প্রটেকশন তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

পুরনো ল্যাপটপে পান্ডা চালানো যাবে?

হ্যাঁ, পান্ডা অ্যান্টিভাইরাস পুরনো ল্যাপটপেও খুব ভালোভাবে কাজ করে। এটি মাত্র ১৫ থেকে ২০ এমবি RAM ব্যবহার করে, যা Windows Defender-এর থেকেও কম। এক ছাত্র জানিয়েছেন, তিনি ২০১৩ সালের একটি ল্যাপটপে পান্ডা ব্যবহার করেছেন এবং এটি খুবই স্মুথলি চলেছে।

ভারতে কাস্টমার সাপোর্ট পাব কীভাবে?

পান্ডা অ্যান্টিভাইরাসের ভারতীয় গ্রাহকরা সরাসরি ফোন ও ইমেইলের মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারেন। ফোন নম্বর হলো ১৮০০-৪১৯-৭৩৭৩, যা সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকে। এছাড়াও support@pandasecurity.com ইমেইল ঠিকানায় সমস্যা জানানো যায়। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি কার্যকরী পরামর্শ হলো, স্ক্রিনশটসহ সমস্যাটি ইমেইলে পাঠালে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়।

পান্ডা বনাম নর্টন বা বিটডিফেন্ডার: কোনটা ভালো?

পান্ডা অ্যান্টিভাইরাসের মূল আকর্ষণ হলো এর কম খরচে গ্রহণযোগ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা। পান্ডার দাম কম, এমনকি ফ্রী সংস্করণও পাওয়া যায়, যেখানে নর্টন বা বিটডিফেন্ডার তুলনামূলকভাবে বেশি দামি। সুরক্ষার দিক থেকে পান্ডা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হলেও, নর্টন ও বিটডিফেন্ডার প্রায় ৯৯ শতাংশ বা তারও বেশি সুরক্ষা দেয়। ফ্রী সংস্করণে পান্ডা VPN ও ইউএসবি প্রটেকশন দেয়, যা অন্যেরা সাধারণত দেয় না। তাই বাজেট কম হলে পান্ডা ভালো, তবে উচ্চতর সুরক্ষা চাইলে নর্টন বা বিটডিফেন্ডার বেছে নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।

মোবাইলে পান্ডা অ্যান্টিভাইরাস কাজ করে?

হ্যাঁ, পান্ডা অ্যান্টিভাইরাস মোবাইলেও কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি ভাইরাস স্ক্যান, অ্যাপ লক এবং প্রতিদিন ১৫০ এমবি ফ্রী VPN সুবিধা দেয়। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যালওয়্যার স্ক্যান ও ফিশিং ব্লকার সুবিধা আছে, যদিও iOS-এ ভাইরাসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফ্রী ভার্সনে মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপন দেখা যায়, তবে গেমিং মোড চালু থাকলে বিজ্ঞাপন বন্ধ থাকে।

উপসংহার 

সব মিলিয়ে Panda Antivirus একটি নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহার-বান্ধব সাইবার সুরক্ষা সফটওয়্যার। যারা সহজেই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে চান এবং অতিরিক্ত ঝামেলা ছাড়াই নিজেদের ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সমাধান।

 Panda-এর ফ্রি এবং পেইড উভয় সংস্করণই বাজারে পাওয়া যায়, তাই প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়।

 সাইবার জগতের প্রতিদিন বদলে যাওয়া হুমকি থেকে রক্ষা পেতে Panda Antivirus হতে পারে আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রথম ঢাল।

আশাকরি আজকে এই Post আপনাদের ভালো লেগেছে এবং Panda Antivirus সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, ধন্যবাদ।